অস্ত

অভিনন্দন মুখোপাধ্যায় সূর্য মাতালতাকে কে খাওয়ালো হাঁড়িয়া, মাংসের ভুনা?এই,এই টলে গেল পাখিদের দিকেডানার ঝাপটা লেগে ফিরে এলো ফের সামনে দিয়ে উড়ে গেল খসে যাওয়া তারাগাল পাড়লো তাকে, অভিশাপ দিলোমাথা থেকে গামছা খুলে বেরিয়ে পড়েছেকিছু গর্ত আর পাথরের কুচিএই, এই পড়ে…

অচেনা

শাশ্বতী ভট্টাচার্য  ক্রমশঃ মলিন হচ্ছে চেতনার সেই গলিপথযে পথে হেঁটেছে প্রেম, মানবিক স্বাধীন শপথযে পথে পুজোর আগে টুপটাপ শিউলি দিন গোনে,সেই পথ মিশে যাচ্ছে মানুষের অন্ধকার মনে।  ফিকে হচ্ছে হাসিকান্না, ফিকে হচ্ছে মুহূর্তের দেখাভুলে যাচ্ছ নীতিকথা, সময়কে ফাঁকি দিয়ে একাছুটে…

কেউ ঠিক করে দেবেনা

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায় আমি কী খাবো কেউ ঠিক করে দেবেনা কী পরবো কেউ ঠিক করে দেবেনা কার সঙ্গে কী ভাবে কোথায় থাকবো কেউ ঠিক করে দেবেনা কার সঙ্গে শোব আর কার সঙ্গে রবি ঠাকুর শুনবো কাকে প্রণাম জানাবো আর কাকে ভোট দেব কেউ ঠিক করে দেবেনা আমি উপন্যাস পড়বো না কোলাঘাটে মাছ ধরতে যাবো স্বপ্নে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া না গান্ধী – কাকে চুমু খাবো নীল শাড়ি না লাল সালোয়ার – কাকে দেখে কেঁদে ফেলবো কেউ ঠিক করে দেবেনা , কেউ ঠিক করে দেবেনা আমি কোন উপাসনাগৃহে গিয়ে সারাদিন চুপচাপ বসে থাকবো পুতিন না ট্রাম্প আমি কাকে বেশি অপছন্দ করবো পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি কী ভাববো কেউ ঠিক করে দেবেনা , সিগারেট ইত্যাদি আমি একদিন এমনিই ছেড়ে দেব, কেউ বলবে বলে নয় কেউ ঠিক করে দেবেনা আমি আইসক্রিমের বদলে হাতে কাফকা তুলে নেবো কিনা , অথবা আর্ট গ্যালারি যাবার নাম করে ন্যুড-কলোনিতে হেঁটে যাবো কিনা আমাকে বেশি ঘাঁটাবেননা , আমার মন-মেজাজ খারাপ এবং আমার মত আরও অনেকেই আছে যারা কেউ কিছু ঠিক করে দিলে মানেনা আমি শুধু বলতে চাই মানুষের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে তাকে কোনদিকে যেতে হবে ঠিক করে দেবেননা ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড় করিয়েও আপনি যদি ভালোবাসার কথা বলেন , সত্যি ভালোবাসার কথা বলেন –হাসিমুখে মেনে নেবো , আর কিছু মেনে নেবার জন্যেআমি এখানে আসিনি।

হৃদ-যোজক

অরিজিৎ চক্রবর্তী পাখি ও সরীসৃপের হৃতযোজক হয়ে বেঁচে আছি। এই বেঁচে থাকার ভিতর যেমন একটি পাখি আছে তেমন একটি সরীসৃপও আছে। আমি বহুদিন থেকেই এমনটা ভাবতে শুরু করেছি। হয়তো একা মানুষের ভাবনায় এরকম মরচে রঙের অপরাহ্ন থাকে। আমারও আছে। আমার…

ছুঁয়ে থাকি

দেবাশিস চন্দ মাঠি ছুঁয়ে থাকতে চাইথাকতে চাই গাছেদের জড়িয়েচাঁদের আরোগ্যসাম্পানে ভেসে আসাজোৎস্নাগন্ধ মেখে বসে থাকি শব্দউপকূলেঅন্ধকারের সন্ত্রাসচৌকাঠ পেরিয়ে আসতে গেলেখাড়া করি প্রাচীর, রোদ হাওয়ার পৃথিবীতে এসে দাঁড়াই#  দূরত্বশাসনের উদ্ধত তর্জনী এক ফুঁয়েউড়িয়ে বলি দূরে নয়, কাছে কাছে স্পর্শেস্পর্শে জীবনের বৃন্দগান, ভার্চুয়াল…

দিনরাত্রি

বীথি চট্টোপাধ্যায় হু হু করে কাটে দিনরাতযেন ট্রেনের জানলা দিয়ে ;পেরিয়ে যাচ্ছে দিগন্তসীমাধানক্ষেত হাতে নিয়ে।#নিশুতি রাতটি ঝরে পড়েঘোর বৃষ্টির মত মুখেশুনসান পাড়া, ছায়ামূর্তিরাহাঁটে শহরের বুকে।# পড়ন্ত রোদ মুছে দেয় দিনপাখির ডানায় উড়ে,কল্লোলিনীর কলরব যেনবেড়াতে গিয়েছে দূরে।# কুসুমে কুসুমে ফাঁকা রাস্তায়চরণচিহ্ন রেখে, আর কতদূরে…

তিনি একা

কমল চক্রবর্তী আলোয় হাঁটছেন বজ্র, বিদ্যুৎ-শতধা!সে এক বিদীর্ণ আকাশ, ঝুঁকে দূরে রামধনু -রেখা!হবে না নরের ব্রহ্ম!নারী বাতায়ন খুলে রাখো!আঁধার -কিংশুক গুলি গাঁথো দূর্বাদলেভাসাও অমিয়-তরণী।তুমি শ্রেষ্ঠ, তুমি দ্বিজ, তুমি ব্রহ্মবাদিনী!তোমার চোখের জলে লেলিহান, দাবানলদুর্মর-অমর-বিদ্যাসাগর! তুমি নারী, বিদ্যুৎ বালাতুমি মারু বেহাগের প্রগাঢ়-পেয়ালা!হে…

খড়কুটো

সুবোধ সরকার কে তোমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলসেটা বড় কথা নয়তুমি কীভাবে উঠে দাঁড়ালেসেটা অনেক বড় কথা। কে তোমাকে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে দিলসেটা বড় কথা নয়তুমি জ্যোৎস্না অনুসরণ করে উঠে এলেসেটাই তো আজ হেডলাইন । তোমার কোন বন্ধু নেই…

না বিষয়ক

শান্তিময় মুখোপাধ্যায় ১.অদৃশ্যের পরিপূরক কিছু নেইযেমন অভিদার চলে যাওয়াজল ছুঁয়ে পরবর্তী ঢেউগুলো তবু ফিরে যায়পরবর্তী গঠনশৈলীর জন্যে  ২.    স্ট্র‍্যাপ ছিঁড়ে যেতেই পেঁয়াজের সুডৌল থেকে  ঝাঁঝ খসে পড়েছলছলে চোখ আররুলটানা দুপুর নিয়েবাল্যকাল ফিরে এলোটুবুর কথায়  ৩.পাখিদের ডাক শোনার চেয়েএকজন হরবোলা বন্ধু থাকা ভালোউড়ে গেলেও…

সলিল চৌধুরী: এ মহাপৃথিবীর চরাচর

দেবজ্যোতি মিশ্র  ‘ওগো অহল্যা আমার কোথায় বসাবো বলো তুমি ফিরে এলেআমার কুটিরে আর জ্বলে নাকো আলোভাঙা ছাদ টলোমলো, বৃষ্টি এসে পড়ে’  সেদিন বৃষ্টি হয়নি কিংবা ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘে বৃষ্টির কথা লিখে রাখেনি কেউ। শূন্য আকাশ তাকিয়ে ছিল হ্যাঁ করে। গ্রাম নগর…