সংগম

গৌতম মণ্ডল   এসেছে যে তাকে প্রশ্ন কোরো নাসূর্যাাস্তের ছায়ায় তাকে বসতে দাওএকবার সে বসুকনিজেকে নিঃস্ব করে পোড়া আকাশের নীচে দাঁড়াক তারপর কথা হবে সংগম

অন্ধকার

সতীন্দ্র অধিকারী খাতা জমা রেখে যেতে হবে বলেতাড়াহুড়ো করবো না কখনও! এই যে ঘর আর ঘরের চার দেয়ালউঠানে কাঁঠালের গাঁ বেয়ে গৃহ-লতাআর এই যে ভারতীয় আকাশবেকারত্বের শরীরময় তীব্র শ্বাস অ্যাতো যে লিখে রাখছি আরভাবছি আর ছিঁড়ে ফেলছি দিনরাত অথচ অন্ধকার…

অস্ত

অভিনন্দন মুখোপাধ্যায় সূর্য মাতালতাকে কে খাওয়ালো হাঁড়িয়া, মাংসের ভুনা?এই,এই টলে গেল পাখিদের দিকেডানার ঝাপটা লেগে ফিরে এলো ফের সামনে দিয়ে উড়ে গেল খসে যাওয়া তারাগাল পাড়লো তাকে, অভিশাপ দিলোমাথা থেকে গামছা খুলে বেরিয়ে পড়েছেকিছু গর্ত আর পাথরের কুচিএই, এই পড়ে…

অচেনা

শাশ্বতী ভট্টাচার্য  ক্রমশঃ মলিন হচ্ছে চেতনার সেই গলিপথযে পথে হেঁটেছে প্রেম, মানবিক স্বাধীন শপথযে পথে পুজোর আগে টুপটাপ শিউলি দিন গোনে,সেই পথ মিশে যাচ্ছে মানুষের অন্ধকার মনে।  ফিকে হচ্ছে হাসিকান্না, ফিকে হচ্ছে মুহূর্তের দেখাভুলে যাচ্ছ নীতিকথা, সময়কে ফাঁকি দিয়ে একাছুটে…

মৃত্যু অন্তর্গত

গৌতম ভরদ্বাজ মৃত্যু পার্থিব। মরণের পথে মৃত্যু যখন যায়ডানা দিয়ে ঢেকে রাখে কর্কশ অনিচ্ছার নিশ্বাস।মৃত্যুপথ ধূমল হেমন্ত ছায়া বিষাদ হলেলোকাতীত নিস্তব্ধতায় বীতশোক মরন শুইয়ে দেয়বিদেহী মৃত্যু-আত্মার শরীর। ফর্সা আকাশে নির্বিকার চাঁদের মতোহাহাকার শোকের গোলমাল নিরপেক্ষ মৃত্যুজনপদে নিত্য সত্য মরণশীল চরে।

সাঁকো

মধুবন চক্রবর্তী সাঁকোটা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে সেই ব্রম্মপুত্রের তলদেশ পর্যন্ত। সাবওয়ের অন্ধকার ভেঙে ভেঙে স্রোতস্বিনী স্বপ্নগুলো, সাঁকোর উপর দিয়ে মেতেছে সারারাত। পায়ে-পায়ে রাতভর, ক্লান্ত শরীরে। নিভে যাওয়া বিকেলের রোদ মেখেছে  সাঁকোর কাদামাটি মাখা শরীর মন। সূর্যমুখী আলোর সুধা পান…

কেউ ঠিক করে দেবেনা

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায় আমি কী খাবো কেউ ঠিক করে দেবেনা কী পরবো কেউ ঠিক করে দেবেনা কার সঙ্গে কী ভাবে কোথায় থাকবো কেউ ঠিক করে দেবেনা কার সঙ্গে শোব আর কার সঙ্গে রবি ঠাকুর শুনবো কাকে প্রণাম জানাবো আর কাকে ভোট দেব কেউ ঠিক করে দেবেনা আমি উপন্যাস পড়বো না কোলাঘাটে মাছ ধরতে যাবো স্বপ্নে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া না গান্ধী – কাকে চুমু খাবো নীল শাড়ি না লাল সালোয়ার – কাকে দেখে কেঁদে ফেলবো কেউ ঠিক করে দেবেনা , কেউ ঠিক করে দেবেনা আমি কোন উপাসনাগৃহে গিয়ে সারাদিন চুপচাপ বসে থাকবো পুতিন না ট্রাম্প আমি কাকে বেশি অপছন্দ করবো পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি কী ভাববো কেউ ঠিক করে দেবেনা , সিগারেট ইত্যাদি আমি একদিন এমনিই ছেড়ে দেব, কেউ বলবে বলে নয় কেউ ঠিক করে দেবেনা আমি আইসক্রিমের বদলে হাতে কাফকা তুলে নেবো কিনা , অথবা আর্ট গ্যালারি যাবার নাম করে ন্যুড-কলোনিতে হেঁটে যাবো কিনা আমাকে বেশি ঘাঁটাবেননা , আমার মন-মেজাজ খারাপ এবং আমার মত আরও অনেকেই আছে যারা কেউ কিছু ঠিক করে দিলে মানেনা আমি শুধু বলতে চাই মানুষের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে তাকে কোনদিকে যেতে হবে ঠিক করে দেবেননা ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড় করিয়েও আপনি যদি ভালোবাসার কথা বলেন , সত্যি ভালোবাসার কথা বলেন –হাসিমুখে মেনে নেবো , আর কিছু মেনে নেবার জন্যেআমি এখানে আসিনি।

হৃদ-যোজক

অরিজিৎ চক্রবর্তী পাখি ও সরীসৃপের হৃতযোজক হয়ে বেঁচে আছি। এই বেঁচে থাকার ভিতর যেমন একটি পাখি আছে তেমন একটি সরীসৃপও আছে। আমি বহুদিন থেকেই এমনটা ভাবতে শুরু করেছি। হয়তো একা মানুষের ভাবনায় এরকম মরচে রঙের অপরাহ্ন থাকে। আমারও আছে। আমার…

ছুঁয়ে থাকি

দেবাশিস চন্দ মাঠি ছুঁয়ে থাকতে চাইথাকতে চাই গাছেদের জড়িয়েচাঁদের আরোগ্যসাম্পানে ভেসে আসাজোৎস্নাগন্ধ মেখে বসে থাকি শব্দউপকূলেঅন্ধকারের সন্ত্রাসচৌকাঠ পেরিয়ে আসতে গেলেখাড়া করি প্রাচীর, রোদ হাওয়ার পৃথিবীতে এসে দাঁড়াই#  দূরত্বশাসনের উদ্ধত তর্জনী এক ফুঁয়েউড়িয়ে বলি দূরে নয়, কাছে কাছে স্পর্শেস্পর্শে জীবনের বৃন্দগান, ভার্চুয়াল…