সে

রাহুল দাশগুপ্ত

সে শুধু কাজ করে যাবে, মগ্ন হয়ে, নিজের মতো
মোমবাতির উজ্জ্বল একটি শিখার মতো জ্বলবে তার আত্মা
যে জমির ওপর সে দাঁড়াতে চায়, তার নাম নির্জনতা
তার চারদিকে থাকবে দুর্ভেদ্য প্রাচীর
চারপাশে যা কিছু ঘটছে, সে সবের স্পর্শ অর্থহীন হয়ে যাবে
                                                    সেই প্রাচীরের কাছে
ওসব নিয়ে ভেবে কোনও লাভ নেই
জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে একটা লম্বা, টানা পথ
সেই পথে ছড়ানো ছিটানো আয়ুর অপচয়
এবার তাকে গুছোতে হবে
এবার তাকে প্রস্তুত হতে হবে, নষ্ট হয়েছে অনেক সময়
যোগাযোগের সেতুগুলোর দিকে এখন আর সেভাবে তাকায় না সে
নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিতে চায়
থাকতে চায় নিজের মতো করে
এখনও তার ভিতরে প্রচণ্ড অস্থিরতা, কেউ কথা না রাখলে
কারও সাড়া না পেলে, কেউ মুখ ঘুরিয়ে নিলে
                                      তার প্রতিক্রিয়া হয়
এইসব প্রতিক্রিয়া অর্থহীন, উত্তেজনা বাড়ায়, ক্লান্ত করে
আত্মস্থ হওয়ার মতো সুখ আর কোথায়?
শুধু কাজ, জীবনের আর যতো অবাঞ্ছিত অভিজ্ঞতা
কোনও কিছুতে প্রতিক্রিয়া দেখাতে চায় না সে
নিজেকে গুটিয়ে নিতে চায়, সরে আসতে চায় কাজের দিকে
চারপাশে উত্তাল হয়ে উঠুক এক অর্থহীন, নির্বোধ, তুচ্ছতায় ভরা দুনিয়া
সে শুধু নিবিড় করে পেতে চায় তার কাজকে
তার কাজ, যা বহুদিন ঘুমিয়ে ছিল তারই বুকের ভেতর
                                    সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো…

Leave a Reply

Your email address will not be published.