মেঘের কোলে মহুলিয়া

অরুণাভ দাস

জুলাইয়ের জলছবিতে হরজাই রঙের প্লাবন। তার সঙ্গে কোথাও রিমঝিম, কোথাও ঝমঝম। কলের শহর অসহ্য মনে হয়। দুবন্ধুতে ঝোলায় ক্যামেরা ও সামান্য কটি পোশাক ভরে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি মেঘলোকের পথে। দূরে কোথাও নয়, পাহাড়ের ওপরে নয়। উপত্যকায় দাঁড়িয়ে ঘাড় উঁচু করে মেঘ, পাহাড় ও বর্ষাধারার খুনসুটি দেখব বলে। ট্রেন ছুটল মেঘেরই ভেতর দিয়ে, কী আশ্চর্য! জানালা দিয়ে যতটা পারি দেখি আর ভাবি, কোন খামখেয়ালি শিল্পী আদিগন্ত ক্যানভাসে এত ছবি আঁকে আর মোছে। স্নাত সবুজের সমারোহে ঝুলে থাকে অদৃশ্য ব্যানার, “হৃদয়ে কার কপাট খোলার শব্দ পাওয়া যায়, শোনো।” কান পেতে থাকে, চোখ মেলে রাখি, দেখব বলে বৃষ্টিজলে কেমন করে দিনটি আমার স্বপ্ন হয়ে যায়। গ্রাম পেরিয়ে বন, বন উজিয়ে মাঠ, মাঠের পারে পালিয়ে যাওয়া অনামি স্টেশন, তারপর একসময় অনেক দূরে হাতির পিঠের মতো সজল ছায়ার মায়া জড়ানো দিগন্ত। সঙ্গী আগ্রহভরে জানতে চায়, “ওই কি আমাদের মুক্তির দুয়ার? নাকি আরও এক অমোঘ বন্ধনের চিরন্তন নিয়তি?” উত্তর খুঁজে পাই না। মন গুনগুন করে, “মধুর তোমার শেষ যে না পাই।” ট্রেনের গতি কমে আসছে। মেঘলোকের আধ-চেনা স্টেশন আর দূরে নয়। ঝোলা কাঁধে উঠে দাঁড়াই। 

      দরজায় গিয়ে দেখি স্টেশন চিনতে ভুল হল। ট্রেন থামল ঘাটশিলায়। নামব আসলে পরের স্টেশনে। ঘাটলাকে জড়িয়ে অনেক সুখস্মৃতি। ছেলেবেলায় অনেকবার আসা। তখন ঘাটশিলাকে দেখলে মনে হত স্বপ্ন থেকে খসে পড়া একটি খাঁটি সোনার টুকরো। বুকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বিভূতিভূষণের অপু ও তার দলবল স্টেশনে পা রেখেই এক্কাদোক্কা খেলতে লেগে যেত। এখন অপু বুজের ভেতর ঘুমিয়ে থাকে। উন্নয়ন ও আধুনিকতা সিংভূম সুন্দরী ঘাটশিলার লালিত্য শুষে নিয়েছে। সেই তুলনায় পরের স্টেশন গালুডিতে প্রকৃতির ওপরে আজও সেভাবে প্লাস্টিক সার্জেনের হাট পড়েনি। স্টেশনে নামতে কৈশোরের অনাবিল ভালোলাগা ফিরে পাই। কাছেপিঠে রোদ্দুর ঝলমল, দূরে মেঘ বৃষ্টির অঞ্চল। এক ফ্রেমে অসম্ভব বৈপরীত্যের ছবি আমাদের স্বাগত জানাতে সাজিয়ে রেখেছে কেউ। পেট থেকে দুচারজনকে নামিয়ে দিয়ে ইস্পাত এক্সপ্রেস ছুটে গেল রাখা মাইনসের দিকে। প্লাটফর্মের একধারে একগাছ টিয়া কলকলিয়ে বর্ষামঙ্গল শোনাতে লেগেছে। পাখির ডানায় চড়ে মন উড়ে গেল আরও গভীর মেঘের দেশে, শরীর রইল পড়ে সুবর্ণরেখা ধোঁয়া আলোছায়াময় মালভূমির উথালপাথাল আঙিনায়। বুক পকেটে হাত দিয়ে দেখে নিই, ভরা আছে মুক্তি কিম্বা আরও অমোঘ বন্ধনে বর্ষা যাপনের রঙিন ঠিকানা, সাকিন মহুলিয়া, জেলা পূর্ব সিংভূম, রাজ্য ঝাড়খণ্ড। 

      রাস্তায় বেরিয়ে ঝুপ্পুস ভিজে যাওয়া, যত না শরীরে তার চেয়ে অনেক বেশি মনে মনে। বারি দেবতার বিজয়রথ ছুটে যায় আকাশের ছায়াপথ ধরে। পুষ্পবৃষ্টির মতো ছুটে আসে অগণিত জলকণার মুক্তোদানা। রুখা মাঠ, টাড়, টিলা অবগাহন করে অনাবিল এক আনন্দধারায়। সেই ধারাস্নানের দেশ বেয়ে আমাদের পথ আজ উধাও দিগন্তরে। নির্দিষ্ট কোথাও যাবার দায় বা তাগিদ থাকে না যেখানে, ঝেড়ে ফেলা যায় সময়ের চোখরাঙ্গানি, সেখান থেকে আরম্ভ হয় বিশুদ্ধ ভ্রমণ, বিভূতিভূষণ যাকে বলেছেন “দেশ আবিষ্কার।” পিছনে ফেলা পদচিহ্ন ধুয়ে যায়, সামনের পথ উন্মুখ হয়ে থাকে হাত ধরে নিরুদ্দেশের দেশে টেনে নিয়ে যেতে। বাঁকে বাঁকে প্রকৃতির যবনিকা শরে যায়, ভালোলাগা ভালোবাসা মিলে মন প্রাণ ভরে যায়। পদ্মদিঘির কাকচক্ষু জলে ছায়া পড়ে অন্য পৃথিবীর। যাত্রা শুরুর গ্রাম মাহুলিয়া পড়ে রইল অনেক পিছনে। সামনে পাহাড়তলি বরাবর ঢেউখেলানো পথ, মেঘের আঁধারকালো সামিয়ানার তলায় তলায়। চোখে দেখি আর ভাবে মন, জীবন মানে আসলে এক যতিচিহ্নহীন উচাটন, খুঁজে ফেরা পরে পাওয়া চোদ্দ আনা অরূপরতন। 

      বাদলের মাদল শুনতে পাড়ি দিয়েছি মাহুলিয়া থেকে পুরুলিয়া। ঝাড়খণ্ডের গা লাগোয়া পুরুলিয়ার দুয়ারসিনি, লেপতে আছে সাতগুরুম নদীর অপরূপ নিরালায়। চলি আর শুনি, সারা আকাশ জুড়ে ডমরু বাজে, দেবলোকের ধামসা মাদলে ওঠে ঝড়। অবাক বিস্ময়ে চেয়ে দেখি, নীল নভের শেষ স্মৃতিচিহ্ন কী অবলীলায় তাড়িয়ে নিয়ে চলেছে শ্রাবণের পাগলা হাওয়া। মেঘলোকে মেঘেরই স্বৈরাচার। সেই কঠিন কঠোর ডম্বরুধর আবার কোথাও নরম হয়ে মুখ দেখছে নদীজলের অস্থির আয়নায়। নীল নেটের শাড়ি পরা বৃষ্টিধারার তাই দেখে সে কী খিলখিল। মোহিনী আড়াল দিয়ে বেলা গড়িয়ে যায় সন্ধের সীমানায়। চোখ পুড়ে যায় চিক্কণ বিদ্যুৎ চমকে। দূরে পাহাড়ের কোলে আবার বরষা-সঙ্গীতের তালে তালে পোড়া বাসির মতো পোঁ ধরে অভিসারী হাওয়া। বুক মুচড়ে ওঠে, যে আসবে বলেও আসেনি, সেই রোদ্দুরের ভ্রান্ত পথ চাওয়ায় বেলা বয়ে যায় সন্ধের প্রান্তভূমিতে। দুয়ারসিনি ছুঁয়ে বান্দোয়ান স্নাত সবুজের শান্ত এক করিডোর যেন। ফেরার পথে সবুজ মুছে কালো। কত সন্ত্রাসের ইতিহাস ছড়ানো পথপাশের ঝোপেঝাড়ে। ভয় নয়, ভালোলাগা ঘিরে থাকে অমোঘ প্রত্যয়ে। তারাহীন আকাশের কায়াকল্প বহু পড়া প্রিয় গল্পের মতো উন্মুখ থাকে পাতা ওল্টানোর। প্রথম দিনের প্রকৃতিপাঠ কানায় কানায় পূর্ণ। 

      পরদিন সকাল হতেই দে ছুট সুবর্ণরেখার আঁচল ধরে। শীতে দেখেছি, শরতেও দেখেছি তাকে, কিন্তু বর্ষায় সুবর্ণরেখা অনুপমা। মানে, কোনও উপমা তার লাসয় বর্ণনা করার জন্য যথেষ্ট নয়। সারিবদ্ধ পাহাড়ের প্রতিবিম্ব সুবর্ণর অহংকার, আকাশজোড়া বহু বর্ণের মেঘপুঞ্জ তার অলংকার। গালুডি ড্যামে সীমানা ছাড়ানো নিটোল জলছবিটির সামনে মনে মনে জীবন নদীর রং মেলাই। শোক, তাপ, সুখ ও আনন্দের মহাকোলাজ জলের আলপনা ছাড়া পূর্ণ হবার নয়। সেই জল ক্বচিৎ প্রকাশ্য, বেশিটাই ফল্গুধারা। সে জলের আরেক নাম অশ্রু। অশ্রু ঝরে ব্যথায়, অশ্রু ঝরে হরষে। প্রাত্যহিক যাপনের বহুমুখী অনুভূতিমালা বয়ে যায় শতধারায়। সুবর্ণর চিবুক ছুঁয়ে এসে বৃষ্টি স্পর্শ করে আমাদের শরীর। অঙ্গ থেকে অন্তর। নদীর কাছে কাঙালের মতো হাত পাতি, দুহাত ভরিয়ে দেয় শ্রাবণী প্লাবন। 

      সুবর্ণরেখার পাড় ছেড়ে দিগন্ত ছুঁতে যাই। সেখানে সবুজকে স্নানরত দিখে পথ হয়েছে আয়না। তাই দেখে হিংসায় আকাশের মুখ আরও ভার। বৃষ্টির দেবতা ভাবে, এখেলায় জয় কার? কারই বা হার? দেখি আর ছুটে যাই দূর থেকে দূরে, দিগন্ত ছাড়ানো এক সত্যি অচিনপুরে। হলদিপুকুর হয়ে হরিণা। সেখানে আকাশ নামে পাহাড়ে, পাহাড় গড়িয়ে পড়ে নদীতে, নদী হারায় অরণ্যে ও অরণ্য মেশে তেপান্তরে। ভেজা দিনের সুহানাসফরে কী হাওয়ায় মেতে ওঠে ভাবনার দল, অবিরাম ঝরে পড়ে বৃষ্টির জল, “দোলে মন দোলে অকারণ হরষে…” 

      খানিকটা তফাত রেখে টাটা থেকে বাদামপাহাড়ের রেললাইন। টিলার সবুজ নেমে এসেছে বিস্তীর্ণ রাঙা মাটির উপত্যকায়। ছোটো নদী তো মহা চিন্তায়, আজ বাদলবেলায় মেঘের ধূসর মাখবে নাকি মাঠের সবুজ অথবা মাটির সিঁদুর? আয়না মোড়া পথ আমাদের টেনে নিয়ে চলেছে হরিণা শিবমন্দিরের দিকে। শ্যামল সজল পৃথিবীর একটি অমল আলোকময় দৃশ্যকাব্য যেন প্রতিনিয়ত অদৃশ্য কালিতে লেখা হয়ে চলেছে চোখের সামনে। তার জলছবিতে রং মিলাতে ভিনদেশী দুই ভবঘুরে। কবে যেন কার মুখে শুনেছিলাম, হরিনা ছাড়িয়ে আর একটু গেলে ওড়িশার রাইরাঙ্গপুর জেলায় লোকচক্ষুর আড়ালে সোনার খনি আছে। অতদূর যাওয়া হবে না। এখানেই যে দিকে চাই, প্রকৃতির সোনার খনি পথের দুধারে। তারপর ছোট্ট জনপদ, বনের আড়ালে গুটিকয় প্রাচীন মন্দির। হরিণা প্রথম দেখায় মন কেড়ে নিল। গাছের পাতা বেয়ে টুপটাপ জল পড়ছে। গায়ে মাখি না। আজ আমাদের গভীর অবগাহনের দিন। মোরামের হাঁটাপথ ভুলিয়েভালিয়ে টেনে নিয়ে যায় অনেক দূর। লালপাহাড়ির বুকের আঁচলে সবুজ বনের স্যিলুট। খাপরার চালাওয়ালা দুটি আধভাঙা ঘর। কোন সে উদাসী বাবার আখড়া কে জানে। লোক দেখলে ভাব জমিয়ে থেকে যাবার কথা ভাবা যেত। কিন্তু কেউ নেই চরাচরে। ফেরার সময় মন কেমন। ভাবখানা যেন, জলে জঙ্গলে আটকা পড়লে আরও বেশি সুখ হত। আর এক পশলা আকাশ কালো রিমঝিম মাথায় করে হোটেলে। 

      দুপুরে ভাতঘুম আলস্যের পর পথে আবার। থম হয়ে আছে দিগন্তরেখা। এখানে রাস্তা টেনে আনে ঘরের বাইরে, হাত ধরে ডেকে নিয়ে যেতে চায় নিসর্গের রঙমহলায়। কত যে রতন তার ভাণ্ডারে, হিসেব রাখা পাগলের কাজ নয়। পদে পদে আবিষ্কার, পথে পথে না দেখা নতুন দেশ। চেনা ছিল আসলে কোনোদিন, কালের নিয়মে চেনা ভূগোল বদলেছে বিস্তর। মনে আছে, বহুকাল আগে ঘাটশিলা থেকে রাতসফরে এসেছিলাম। ভোরের আলো ফোটার কালে ধারাগিরি। তাও আজ অদেখা নতুনই মনে হয়। বর্ষাকাল প্রকৃতিকে এমন যত্ন করে সাজায়, পুরনোকেও আনকোরা নতুন মনে হয়। ছুটির মেয়াদ ক্রমশ ফুরিয়ে আসে, কিন্তু নিসর্গের সুরা পানে মদালস মন। বুরুডি ড্যামের জলছবি ফুরতে রহস্যময় পাকদণ্ডি। আদিবাসী গ্রাম ছাড়িয়ে আবার পাহাড়তলির জঙ্গল। ডানায় আলো মাখতে লক্ষ প্রজাপতি বেরিয়েছে বনপথে। এবেলা বৃষ্টি নেই। কিন্তু ধারাপাতের শব্দ বুকে বেঁধে রেখেছে ধারাগিরি। ঝিলমিল বিকেলের আলো খেলছে ঝর্নাধারার যৌবন নিয়ে। অপলকে চেয়ে থাকি আর অস্ফূটে বলি, তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে। ডেরায় ফিরতে রাত। নিশুতির অলসবেলায় আবার তানপুরায় ছড় টানে আকাশভাঙা অবিরাম রিমঝিম। পিঁয়াজি পকোড়া চায়ে পাক খায় সাত রাজ্যের গল্প। হাসির রাজা শিব্রাম চক্কোত্তির সত্যি গল্প শুনে নিজেরাই বৃষ্টির মতো গড়িয়ে যাই আর কী। শিবরামের ভাই শিবসত্য চক্রবর্তী পাশের শহর ঘাটশিলায় একটি স্কুলের শিক্ষকতা করতেন। 

শিবরাম একবার ভাইয়ের কাছে বেড়াতে গিয়ে দেখলেন ভাই খুব চিন্তিত হয়ে মুখ কালো করে বসে আছেন। শিবরাম জানতে চাইলেন, “কী হয়েছে?”

      “আর বোলো না দাদা, স্কুলের ইংরেজি পরীক্ষার একটা খাতা নিয়ে মহা ফাঁপরে পড়ে গিয়েছি। কী যে করব বুঝতে পারছি না।”

      শিবরাম খাতাটি দেখতে চাইলেন। চোখ বুলিয়ে তো তাজ্জব। ১ নং প্রশ্নের উত্তরে গরুর ছবি আঁকা রয়েছে এবং তার নীচে লেখা হয়েছে ‘গাই হামারি মাতা হ্যায়, আংরেজি নেহি আতা হ্যায়।’ একইভাবে ২ নং প্রশ্নের উত্তরেও গরুর ছবি ও নীচে লেখা ‘গাই হামারি মাই রে, আংরেজি নেহি আই রে’। ৩ নং প্রশ্নের উত্তরেও যথারীতি গরুর ছবি ও তার নীচে লেখা ‘গাই হামারি মাতা জি, আংরেজি নেহি আতা জি।’

      গরুর ছবি ও ছড়া দিয়ে এইভাবে বাকি সব প্রশ্নেরও উত্তর লেখা হয়েছে।

      শিবসত্য অধীর হয়ে জানতে চান, “বলে দাও দাদা এ খাতাখানা নিয়ে কী করব?”

      শিবরাম কিছু না ভেবে সমাধান বাতলে দেন, কী আবার করবি? লাল কালিতে ঘ্যাচাং ঘ্যাচাং করে কেটে দিবি আর সবকটার পাশে গোল্লা বসাবি। বিচ্ছু ছাত্রের যেমন কাজ।”

      “বলো কী, ওটি হবে না দাদা। গোল্লা না হয় দিলাম কিন্তু লাল দিয়ে গরুকে কাটব? তা হলে ওরা আমার মাথা কেটে নেবে।”

      শিবরাম পড়লেন মহা ফাঁপরে, তাই তো, গরু মাতা বলে কথা! এদিকটা তো না ভাবলেই নয়। অনেকক্ষণ চিন্তা করার পর বুদ্ধি খুলল। শিবসত্যকে বললেন, “এক কাজ কর, একটাও উত্তর কাটতে হবে না, নাম্বারও দিতে হবে না। শুধু উত্তরপত্রের ওপরে লিখে দে, বলদ মেরা বাপ হ্যায়, নাম্বার দেনা পাপ হ্যায়।”

      আবার সকাল। দুপুরে বিদায় মহুলিয়ার মেঘলোক থেকে। দুটি দিন ছিল স্বপ্ন সত্যির মতো রোমাঞ্চক। শেষবার ছুটে যাই গালুডি ড্যামে, সুবর্ণরেখাকে আলতো ছুঁয়ে বলে আসি, “আসি। আবার যেদিন অবিরল রোদ্দুর হাঁসবে তোমার আঁচলে মেঘবেলার দুবন্ধুকে মনে রেখো কিন্তু।” আকাশের সামিয়ানা থেকে মেঘের দল ক্রমশ নীচে ঝুঁকে পড়ে, যেন অসীম কৌতূহলে শুনতে চায় নদীর সঙ্গে কথোপকথন। মেঘের কৌতূহল মুক্তোদানা হয়ে ঝরে পড়ে সুবর্ণর বুকে। সিক্ত সময় বয়ে চলে স্রোতের মতো। সময়ের কাছেই হাত পেতে থাকি, ঈশ্বরের আশীর্বাদী কিছু মুক্তোদানা আহরণ হয় যদি যাবার বেলায়। ঘরে ফেরার পর ওরাই হবে মেঘলোকের ভ্রমণস্মৃতি তথা অমূল্য স্মরণিকা। 

      দুপুর আড়াইটায় ইস্পাত এক্সপ্রেস পেটে ভরে নিল আমাদের। ক্রমশ বৃষ্টি দেবতার রাজ্য হারিয়ে যাচ্ছে দূর থেকে দূরে। দিগন্তে মিলিয়া যাচ্ছে পাহাড়, তার মাথায় মেঘেদের পালতোলা সারি সারি জাহাজ। মাহুলিয়ার অসম্ভব জলছবি আঁকা থাকল স্মৃতিপটে। যাবার বেলায় মেঘ বাদলের কানে কানে বলে এসেছি, “আবার যদি ইচ্ছা করও আবার আসি ফিরে।” আমার কংক্রিটের শহরে আহবান জানিয়ে এসেছি। “মেঘ বলেছে যাব যাব…” 

দরকারি তথ্যঃ হাওড়া থেকে রেলপথে গালুডি ২২৬ কিমি। যাতায়াতের সবচেয়ে সুবিধাজনক ট্রেন ইস্পাত এক্সপ্রেস। থাকার জায়গা গালুডি রিসর্ট ও রজনীগন্ধা গেস্টহাউস। স্টেশন গালুডি হলেও গ্রামের নাম মহুলিয়া। থাকার ঘর বুকিঙয়ের জন্য যোগাযোগের ফোনঃ ৯৮৩০৫২৩৫৮৮। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.