জাফিরা

সঞ্জীব ব্যানার্জি 

                     জাফিরা প্রানপন দৌড়চ্ছে!! কখনো দাঁড়িয়ে হাফাচ্ছে!! আবার দৌড়চ্ছে!!  হাফাতে হাফাতে দৌড়চ্ছে!! তাকে পালাতেই হবে… ওই নরপশু গুলোর বিকৃত লালসার কবল থেকে তাকে অনেক অনেক দূরে পালিয়ে যেতে হবে… যেখানে তাকে এরা খুঁজে পাবে না। সে আর পারছে না… তলপেটে প্রচণ্ড ব্যাথা করছে … তার পরনের পোশাক রক্তে ভেসে যাচ্ছে। আর যে সে পারছে না… জাফিরা টলতে টলতে বসে পড়লো… একটু বিশ্রাম নেবে কি? পরক্ষনেই তার মনে পড়লো ওই নরপিশাচ গুলোর বিকৃত স্পর্শ, তাদের হিংস্র দাঁতের ধার… নোংরা জিভের লালা। জাফিরা কোনক্রমে আবার উঠে দাঁড়ালো, তাকে পালাতেই হবে, থামলে চলবে না। হয়তো শয়তানের দল এতক্ষনে তাকে খুঁজতে শুরু করে দিয়েছে। হাতের শিকার কে সহজে ছেড়ে দেওয়ার মতন লোক তারা নয়। মেয়েরা তাদের কাছে শুধুই ভোগের বস্তু।

           উঁচু নিচু পাহাড়ি পথ বেয়ে জাফিরা আবার দৌড়তে শুরু করলো… আঃ ভীষণ ব্যাথা… কিন্তু থেমে গেলে চলবে না… ওদের কাছে জিপ আছে… বন্দুক আছে। জাফিরার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে… ঠাণ্ডায় সে জমে যাচ্ছে … বরফের স্পর্শ যেন তার প্রায় অনাবৃত শরীরে কাঁটা ফোটাচ্ছে। উফফ… সে হোঁচট খেলো একটা ধারালো পাথরের টুকরোয়… জাফিরার শ্বেত শুভ্র পায়ের থেকে লাল রক্ত বেরচ্ছে… তাও তাকে এগিয়ে যেতে হবে… কিন্তু পা আর এগোতে চাইছে না… নিজের শরীর টা কে কোনক্রমে হ্যাচরাতে হ্যাচরাতে জাফিরা জাফিরা এগিয়ে চলেছে। হঠাৎ জাফিরা নিজের পায়ে জলের শীতল স্পর্শ অনুভব করলো… জলে জাফিরার পা পড়লে… সেই জল তার ক্ষতের রক্তে লাল হয়ে যায়। তার পায়ের ক্ষতে জল লেগে এখন যেন একটু কমেছে ব্যাথা টা। বরফের অঞ্চল পেরিয়ে এখন তার চারপাশে ঘন জঙ্গল… এখন সে অনেকটা নিরাপদ… এই জায়গা টা তে কেউ খুব একটা আসে না… জাফিরার স্নায়ু গুলো শিথিল হয়ে আসতে থাকে! তাও যতটা পথ অতিক্রম করা যায়! চেষ্টা করে যেতে থাকে জাফিরা! তার চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়। একসময় জাফিরার অর্ধনগ্ন দেহ টা জঙ্গলের ঘাসের উপর এলিয়ে পড়ে যায়।  জাফিরার  নির্জীব হাত টা একপাশে এলিয়ে পড়ে।

                  প্রিস্তিন জাফিরার শুশ্রুষা করছে। জাফিরার চোখে মুখে জলের ছিটে দিচ্ছে। তার জ্ঞ্যান ফেরানোর চেষ্টা করছে কিন্তু জাফিরার অর্ধনগ্ন দেহ টা নির্জীব ভাবে এলিয়ে পড়ে আছে। প্রিস্তিন জাফিরার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছে। কিন্তু জাফিরার কাছ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। প্রিস্তিন বুঝতে পারে জাফিরা কে নির্মম ভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। শুধু ধর্ষণ নয়, রীতিমতন অত্যাচার করা হয়েছে। মারধোর করা হয়েছে। জাফিরার ঊর্ধ্বাঙ্গ একটা ছেড়া শেমিজে আবৃত আর প্রায় অনাবৃত রক্তাক্ত নিম্নাঙ্গ যেন চরম লাঞ্ছনার সাক্ষ্য বহন করছে । প্রিস্তিন চেষ্টা করে জাফিরার রক্তাক্ত শেমিজ টা বদলে দিতে। সে আস্তে আস্তে সেটা কে খুলে দেয় । প্রথমে সে ক্ষতস্থানে জল দিয়ে ধুয়ে, সেখানে ওষুধ লাগিয়ে দেয় তারপর নিজের হ্যাভারস্যাক থেকে পরিস্কার তোয়ালে বার করে যত্ন করে জাফিরার ঊর্ধ্বাঙ্গের ক্ষতস্থান মুছিয়ে দেয়। প্রিস্তিন অবাক হয়ে চেয়ে থাকে জাফিরার বরফের মতন শুভ্র, নরম, সুন্দর শরীর টা র দিকে। কতই বা বয়স হবে মেয়েটার! একুশ কিম্বা বাইশ। কি সুন্দর মুখ… চোখ… এমন একটা মেয়ের উপর এমন অত্যাচার করতে পারে কেউ? প্রিস্তিনের মন বিশ্বাস করতে চায় না… অথেচ তেমনটা যে হয়েছে, সেটা তো সে চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছে। মনে হচ্ছে একদল শেয়াল শকুন মিলে মেয়েটার শরীর টা কে নির্মম ভাবে আঁচড়ে, কামড়ে খুবলে খুবলে খেয়েছে। দেহের জায়গায় জায়গায় আঁচড়, কামড়ের লাল দাগ। মারধোর করার দরুন জায়গায় কালো কালশিটে পড়ে গেছে। প্রিস্তিন জাফিরার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। জাফিরার দিক থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায় না এখনো। সে অজ্ঞ্যান হয়ে আছে এখনো। প্রিস্তিনের হাত এবার জাফিরার নিম্নাঙ্গের দিকে এগিয়ে যায়। শরীরের এই অংশে ক্ষতি হয়েছে বেশি, জায়গায় জায়গায় চাপ চাপ শুকিয়ে থাকা রক্ত। প্রিস্তিনের হাত সেখানে পৌছনো মাত্র জাফিরার নির্জীব শরীর টা যেন আতঙ্কে শিউরে ওঠে। জাফিরা তার এলিয়ে পড়া নির্জীব দুর্বল হাত টা দিয়ে প্রিস্তিনের হাত টা কে ধরার চেষ্টা করে । প্রিস্তিন আস্তে আস্তে বলে। 
Pristine: relax dear… I won’t harm you…. 

           জাফিরা প্রিস্তিনের মুখের ইংরাজি ভাষা বুঝতে পারে না। সে একদৃষ্টে প্রিস্তিনের চোখের দিকে চেয়ে থাকে। দুজনে হয়তো দুজনের চোখের নির্বাক ভাষা বুঝতে পারে। জাফিরা আর বাধা দেয় না। প্রিস্তিন জাফিরার নিম্নাঙ্গের ক্ষতস্থান জলে ধুইয়ে, সেখানে ওষুধের প্রলেপ লাগিয়ে তারপর তোয়ালে দিয়ে যত্ন করে মুছিয়ে দেয়। তারপর জাফিরা কে পরিস্কার পোশাক পরিয়ে দেয়। কোথায় যেন মেয়েটার অব্যক্ত ব্যাথা প্রিস্তিনের নিজের ছোটবেলার ভুলে থাকা, ধুলো জমা স্মৃতি গুলো কে উস্কে দেয়। এমন কিছু দুঃস্বপ্নে ঘেরা স্মৃতি, যা প্রিস্তিনের মন কে তাড়া করে বেড়ায়। জাফিরা আস্তে আস্তে চোখ খোলে। তার চোখের দৃষ্টি নির্জীব।

                 প্রিস্তিন তার ওয়াটার বোতল থেকে জাফিরা কে জল খেতে দেয়। জাফিরা দুর্বল হাত নড়বড় করে ওঠে। প্রিস্তিন তার থেকে বোতল টা নিয়ে নেয় তারপর একটু জল নিজের হাতের অঞ্জলি তে নিয়ে জাফিরা কে খাইয়ে দেয়। জাফিরার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। প্রিস্তিন খুব কোমল ভাবে জাফিরার চোখের জল মুছিয়ে দেয়। প্রিস্তিন এরপর তাকে উঠে দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। জাফিরার খুব কষ্ট হয়। তার পা টলমল করে ওঠে।

                 প্রিস্তিন জাফিরাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে। জাফিরা নিজের শরীর টা কে অনেকটাই প্রিস্তিনের উপর উপর এলিয়ে দিয়েছে। প্রিস্তিন তাকে আস্তে আস্তে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। হঠাৎ জাফিরা প্রিস্তিন কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে, একটা বড় পাথরের পেছনে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে। প্রিস্তিন কিছু বুঝতে পারে না, তারপর শুনতে পায় দূর থেকে আসা কিছু ভারী বুটের শব্দ। জাফিরা পাথরের পেছন থেকে প্রিস্তিন কে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। প্রিস্তিন জাফিরার কাছে গিয়ে নিজেকে লুকিয়ে নেয়। দুজনের শরীর খুব কাছাকাছি। জাফিরা আতঙ্কে প্রিস্তিন কে জড়িয়ে ধরে। প্রিস্তিন বুঝতে পারে যে মেয়েটা খুব ভয় পেয়েছে কিন্তু জাফিরার মুখ দিয়ে একটা শব্দ ও বেরোয় না। কতগুলো পা কিছুটা সামনে থেকে পার করে যায়। তারা উর্দু তে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে যে ‘জাফিরা’ কে খুঁজে বার করতেই হবে। অনেক টাকায় কেনা হয়েছে তাকে। কথাগুলো শুনে জাফিরা প্রিস্তিন কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
         
         প্রিস্তিনের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে কিন্তু সে বুঝতে পারে কোনরকম শব্দ করা চলবে না, যতক্ষণ না লোকগুলো এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আর যেদিক দিয়ে গেছে আবার তারা সেদিক দিয়েই ফিরবে। কোনরকম ঝুঁকি নেওয়া চলবে না। একবার খোঁজা হয়ে গেলে, ওরা আর ওদিকে আসবে না।

                   জাফিরা আর প্রিস্তিন আবার এগিয়ে চলেছে। জাফিরা এখন একটু একটু এগিয়ে যেতে পারছে। প্রিস্তিন বুঝতে পারে যে জাফিরার ক্ষিদে পেয়েছে। প্রিস্তিন নিজের ব্যাগ থেকে স্যান্ডউইচ বার করে তাকে খেতে দেয়। জাফিরা অবাক হয়ে খাবার টার দিকে তাকিয়ে থাকে। সে আগে কখনো স্যান্ডউইচ খায়নি। প্রিস্তিন তাকে নিজের হাতে খাইয়ে দিতে চায়। এক টুকরো মুখে দিয়েই জাফিরা বমি করে দেয় সেটা। প্রিস্তিন বুঝতে পারে যে জাফিরা মানসিক ভাবে এখনো বিপর্যস্ত। সে জাফিরা কে জল খাইয়ে আবার চেষ্টা করে খাবার খাওয়ানোর। এবার জাফিরা কিছুটা খায়। 

       তারা দুজন আবার এগিয়ে চলেছে। জাফিরা এখন একটু শক্তি পেয়েছে। সে প্রিস্তিনের হাত ধরে হাঁটছে। প্রিস্তিন মাঝে মাঝে নিজের মোবাইল টা বার করে কল করার চেষ্টা করছে। কিন্তু নেটওয়ার্ক না পেয়ে বিরক্ত হচ্ছে। জাফিরা মোবাইল টা দেখে ভয় পাচ্ছে, বুঝতে পেরে প্রিস্তিন মোবাইল টা ব্যাগের ভিতরে রেখে দেয়। সে এবার একটা ম্যাপ বার করে দেখতে থাকে। জাফিরা অবাক হয়ে তার ম্যাপের দিকে দেখতে থাকে। জাফিরার খুব ঠাণ্ডা লাগছে। সে ঠকঠক করে কাঁপছে। প্রিস্তিন এবার নিজের গায়ের জ্যাকেট টা খুলে, সেটা কে জাফিরার গায়ে পরিয়ে দেয়। জাফিরা অবাক হয়ে প্রিস্তিনের মুখের দিকে চেয়ে থাকে। তার চোখে জল টলটল করছে। প্রিস্তিন তার চোখের জল মুছিয়ে দেয়। জাফিরা এবার প্রিস্তিনের গলার ক্রস লকেট টার দিকে চেয়ে আছে। প্রিস্তিন বুঝতে পারে যে জাফিরা দের ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয় যে যারা ইসলামিক নয়, তারাই সবাই ওদের শত্রু– ‘কাফের’। 

        প্রিস্তিন এবার জাফিরা কে বলে ‘I am Pristine… your name?’ 
জাফিরা আস্তে আস্তে বলে ‘zafira’… প্রিস্তিন এবার বলে যে আমি তোমাকে তোমাকে যেভাবে খুঁজে পেয়েছিলাম… সেটা ভাগ্যের কথা… এখানে তো স্নো লেপার্ড এর উৎপাত আছে… জাফিরা কোন উত্তর দেয় না। হয়তো প্রিস্তিনের অতো ইংরাজি কথা, সে বোঝেও না। তারা দুজনে আবার সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।
       প্রিস্তিন মাঝে মাঝে মোবাইল টা বার করে চেষ্টা করছে কল করার কিন্তু নেটওয়ার্ক পাচ্ছে না। জাফিরা অবাক হয়ে প্রিস্তিনের মোবাইল ফোন টার দিকে চেয়ে আছে। প্রিস্তিন আর জাফিরা একে অন্যের দিকে কিছুক্ষন চেয়ে থাকে। প্রিস্তিনের চোখ জলে ভরে যায়। সে নিজের গলার হোলি ক্রস লকেট টা কে শক্ত করে ধরে থাকে। জাফিরা প্রিস্তিনের দিকে অপলক দৃষ্টি তে তাকিয়ে থাকে। প্রিস্তিন এবার জাফিরার গালে আলতো করে হাত রাখে। তারপর অস্ফুট স্বরে বলে 
‘I was just seven then… I understands… it hurts… it really does…
        প্রিস্তিনের গলা ধরে আসে। জাফিরা প্রিস্তিনের দিকে চেয়ে থাকে। তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে থাকে। জাফিরা প্রিস্তিন কে জড়িয়ে ধরে। দুজন কিছুক্ষন দুজন কে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। যেন তাদের শারীরিক উষ্ণতা আর চোখের নোনতা জল তাদের দুজন কে একে অন্যের কাছে এনে দিয়েছে। দুজনের কষ্টের মধ্যে একটা সেতুবন্ধন হয়। প্রিস্তিন জাফিরার কপালে একটা আলতো চুমু খায়। জাফিরা প্রিস্তিন কে আরও গভীর ভাবে জড়িয়ে ধরে। প্রিস্তিন আর জাফিরা এক জায়গায় বিশ্রাম করছে। জাফিরা এক জায়গায় চোখ বন্ধ করে  বসে আছে, যেন কিছু ভাবছে। তার শরীরটা ক্রমে জড়সড় হয়ে যাচ্ছে।

               সন্ধ্যা নেমে আসছে। চারদিক পড়ন্ত সূর্যের রক্তিম লালিমা! হঠাৎ চোখ খুলে জাফিরা নিজের হাঁটু তে থুতনি রেখে ঠকঠক করে কাঁপতে থাকে। তার দুটো চোখ আধ বোঝা। এবার যে পাগলের মতন মাথার ঝাঁকিয়ে … বিড়বিড় করে কিছু কথা বলতে থাকে। তার মাথার খোলা চুল এলোমেলো হয়ে গেছে আরো বেশি করে। জাফিরার সমস্ত শরীর কেঁপে উঠছে। প্রিস্তিন অবাক হয়ে জাফিরার দিকে চেয়ে থাকে। সে ঠিক বুঝতে পারে না, জাফিরার কি হয়েছে। 
Zafira: Rahimanur Rahim, Aallah Ya Karim, Allah Rahimanur Rahim, Allah Ya Halim, Allah / Rahimanur Rahim, Aallah Ya Azim, Allah Rahimanur Rahim, Allah Ya Azim, Allah…

        প্রিস্তিন আস্তে আস্তে গিয়ে জাফিরার পাশে বসে তার মাথায় হাত রাখে। জাফিরার ঘোর কাটে আর সে আর্তস্বরে চিৎকার করে ওঠে… তার চিৎকার পাহাড়ে জঙ্গলে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে ফিরে আসে। জাফিরা প্রিস্তিনের বুকে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

                  প্রিস্তিন জাফিরার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। দুটি নারী শরীর নিজেদের শরীরের উষ্ণতায় আশ্রয় খুঁজে পায়। প্রিস্তিন জাফিরা কে আদর করতে থাকে। তার আঙুল খেলা করতে থাকে জাফিরার মুখের উপর… ঠোঁটের উপর।

      জাফিরার চোখ গভীর আবেশ আর শান্তি তে বন্ধ হয়ে আসে। প্রিস্তিন আর জাফিরা দুজনে গভীর চুম্বনে মিলিত হয়। জাফিরা প্রিস্তিন কে আবেগে আঁকড়ে ধরেছে। তাদের চুম্বন গভীরতর হয়ে ওঠে।

              প্রিস্তিন তার ডায়রির পাতায় শেষ লাইন লেখা শেষ করে তারপর চেয়ে দ্যাখে জাফিরা পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে রয়েছে। তার মুখে ব্যাথার কোনরকম প্রকাশ নেই। সেখানে লেখা আছে নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের অনাবীল প্রাপ্তির কথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.