গুচ্ছ কবিতা – প্রভাত চৌধুরী

১.
তালা-লাগানো এবং তালা-খোলার মধ্যবর্তী সময়ে
যে পাখিটি বসে থাকবে হেমন্তের মগডালে
তার পালকে কোনো মধ্যপদলোপী বহুব্রীহির
দ্যাখা পাওয়া যাবে না
এইসব মন-জোগানো কথা বলে বেশিদূর যাওয়া যাবে না, দীর্ঘপথ হাঁটার জন্য সংগ্রহ করতে হবে
মনে দাগ কাটার মতো একটি ক্রিয়াবিশেষণ
এই ধরনের চিত্রনাট্য গ্রহণ করার মতো
প্রযোজক পাওয়া যাবে না জেনেও লিখে চলেছি
‘অবাক জলপান’
দ্যাখা যাক যে পাখিটি বসে থাকার কথা হেমন্তের মগডালে, সে জলপাইগাছের দিকে উড়ে গেল কিনা

২.
তালা-লাগানো এবং তালা-খোলার মধ্যবর্তী সময়ে
যে ঝাঁকুনি এসে উপস্থিত হবে, সেই ঝাঁকুনির
আদিতে কোনো ঝাঁকা বসে আছে কিনা
তা আবিষ্কারের জন্য গ্যালিলিও কিংবা নিউটনের
কোনো সহায়তা আবশ্যক হবে না নিশ্চয়ই
এই ঘোষণার সঙ্গে ল্যুইস ক্যারলের
কোনো যোগসূত্র নেই, বিয়োগফলও নেই
আছে ণ-ত্ব ষ-তত্ব বিধানের কয়েকটি ব্যবহারবিধি
আর আছে ‘অপরাহ্ণ’ থেকে ‘সায়াহ্ন’-এ যাবার
একটি সিক্স লেনের নিষ্কর হাইওয়ে 

৩.
তালা-লাগানো এবং তালা-খোলার মধ্যবর্তী সময়ে
যে শুদ্ধাচারগুলি খাঁচার বাইরে অপেক্ষা করছে
তাদের খাঁচার ভেতরে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করা হোক
ওখান কিছুদিনের জন্য পুষ্প-প্রদর্শনী বন্ধ থাকুক
পুরাতত্ত্ব মিলিয়ে দেখে নিলেই দিগ্ ভ্রান্তি থেকে
নিজেকে আড়াল করা যাবে
এর জন্য নির্বাচন করতে হবে দরদালান
ওই দরদালানে কিছু সময়ের জন্য
তন্ময় হয়ে বসে থাকাটা জরুরি
জেনে রাখতে হবে সব দৈববাণী-ই কিন্তু ছাপাখানার
ঠিকানা জানে না, ওদের চোখে স্থাপন করতে হবে
গুগুলম্যাপ আর হাতের তালুর মতো নিজেকে চেনার কি-বোর্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published.